রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে মাদক নিয়ে ফেসবুকে কমেন্ট করার জেরে দূবৃত্তরা এক নারীর বসতবাড়িতে হামলা,ভাংচুর ও লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গোয়ালন্দ পৌরসভার কুমড়াকান্দি গ্রামে ২ নভেম্বর সোমবার সন্ধ্যার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী ফরিদা বেগম (৪৩) মঙ্গলবার গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ১৪/১৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। তিনি ওই গ্রামের সিদ্দিক মোল্লার স্ত্রী। মামলায় এজাহারভুক্ত আসামীরা হলেন কুমড়াকান্দি গ্রামের বিপ্লব শেখের ছেলে রাকিব (২৩), কলেজ পাড়ার জামাল মুন্সির ছেলে বাঁধন (২০), এবং কুমড়াকান্দি গ্রামের সিদ্দিক শেখের ছেলে ইমন (২৫) ও বাবলু শেখের ছেলে সাগর (২৫)।
এদিকে মামলার ২ নং আসামি বাঁধনের পিতা জামাল মুন্সি মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর তার ছেলেকে সঙ্গে করে নিয়ে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। এর আগে তিনি একটি ভিডিও বক্তব্যে জানান, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তিনি তার ছেলেকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করছেন।সেইসাথে তিনি হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। পাশাপাশি হামলার ঘটনায় তার ছেলের সম্পৃক্ততার কথা শুনে নিজেই ভুক্তভোগীদের বাড়িতে ছুটে যান এবং মামলা করতে তাদেরকে সহায়তা করেন। ভিডিওটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে নেটিজেনরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেন। জামাল মুন্সি গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং আগামীতে উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়ে কাজ করছেন।
আলাপকালে জামাল মুন্সি জানান, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তার ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। কিন্তু ঘটনার আগে তার ছেলেকে ডেকে নিয়ে যায় রাকিব। সে ওই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। ঘটনার পরও সে এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করছে। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না। তিনি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশ, প্রশাসন, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্বশীল ভুমিকা প্রত্যাশা করেন।
মামলার বাদী ফরিদা বেগম জানান, হামলাকারীরা লোহার রড এবং এসএস পাইপ নিয়ে অতর্কিত তাদের ঘরে ঢুকে হামলা ও ভাংচুর চালায়। হামলায় তার মেয়ে স্মৃতির (২৪) একটি হাত ভেঙে যায়। এছাড়া ছেলের বৌ সিনথিয়া (১৮), মেয়ের জামাই নাজমুল (২৩) এবং তাকেও বেদম প্রহার করে আহত করে।
এ সময় তারা ঘরের আলামারিতে থাকা নগদ ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা এবং ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্নের চেইন ছিনিয়ে নেয়। পরে আমাদের আর্ত চিৎকার শুনে লোকজন এগিয়ে আসতে থাকলে হামলাকারীরা মাদক নিয়ে আর কোন কথা বললে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে চলে যায়।
ফরিদা বেগম আরো জানান, রাকিব ও বাঁধন কুমড়াকান্দি এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী। তাদের সাথে মিশে আমার ছেলে স্বাধীনও (২৩) মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আমরা ২ মাস আগে স্বাধীনকে এসিল্যান্ড স্যারের ভ্রাম্যমাণ আদালতে ধরিয়ে দেই। স্যার স্বাধীনকে ৬ মাসের কারাদন্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠায়। এ সব নিয়ে কথা বলাতে রাকিব,বাঁধন সহ তার সহযোগীরা আমাদের উপর ক্ষিপ্ত ছিল। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম জানান, মামলার এজাহারভুক্ত ২ নং আসামি বাঁধনকে তার পিতা থানায় সোপর্দ করেছেন। এছাড়া অন্যান্য আসামি পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।